ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন করার শর্ত ও নিয়ম

ইউটিউব থেকে আয়ের সুযোগ পেতে শুধু ভিডিও প্রকাশ করা বা নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহক অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে আবেদন করতে সংখ্যাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পুরো চ্যানেলকে ইউটিউবের মনিটাইজেশন নীতি, কমিউনিটি নির্দেশিকা, কপিরাইট নীতি এবং বিজ্ঞাপনদাতাবান্ধব কনটেন্ট নির্দেশিকা মেনে চলতে হয়। তাই গ্রাহক ও দেখার সময়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি মৌলিক, দর্শকের জন্য উপকারী এবং নীতিমালা অনুসরণকারী কনটেন্ট তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

১৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ইউটিউবের সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম চালু আছে। তবে ৫০০ গ্রাহকভিত্তিক সম্প্রসারিত পার্টনার প্রোগ্রামের বর্তমান দেশতালিকায় বাংলাদেশ নেই। তাই বাংলাদেশভিত্তিক নির্মাতাদের বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম আয়ের অংশ পাওয়ার জন্য ১,০০০ গ্রাহকের সঙ্গে গত ১২ মাসে ৪,০০০ যোগ্য প্রকাশ্য দেখার ঘণ্টা, অথবা গত ৯০ দিনে ১ কোটি যোগ্য প্রকাশ্য শর্টস ভিউয়ের মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। নীতিমালা পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে ইউটিউব স্টুডিওর “আয়” অংশে নিজের বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা উচিত।

  • তথ্য হালনাগাদ: এই লেখার যোগ্যতা, দেশভিত্তিক প্রাপ্যতা ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ১৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ইউটিউবের সরকারি সহায়তা কেন্দ্রের নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো নীতি পরিবর্তিত হলে ইউটিউব স্টুডিওতে দেখানো সর্বশেষ যোগ্যতার তথ্যকে অগ্রাধিকার দিন।

ইউটিউব মনিটাইজেশন আসলে কী?

ইউটিউব মনিটাইজেশন হলো যোগ্য নির্মাতার কনটেন্ট থেকে আয়ের অংশ পাওয়ার ব্যবস্থা। পার্টনার প্রোগ্রামে অনুমোদনের পর ওয়াচ পেজ বিজ্ঞাপন, শর্টস ফিড বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম আয়ের অংশসহ যোগ্য সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখা গেলেই নির্মাতা সেই আয়ের অংশ পাচ্ছেন এমন নয়।

বাংলাদেশে ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশনের মূল শর্ত

বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন আয়ভিত্তিক ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে আবেদন করতে বর্তমানে দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমটি হলো কমপক্ষে ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং গত ১২ মাসে ৪,০০০ যোগ্য পাবলিক ওয়াচ আওয়ার। দ্বিতীয়টি হলো কমপক্ষে ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং গত ৯০ দিনে ১ কোটি যোগ্য পাবলিক শর্টস ভিউ। এই দুই পথের যেকোনো একটি পূরণ করলেই আবেদন করার সংখ্যাগত যোগ্যতা অর্জিত হয়; অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না।

কোন ওয়াচ আওয়ার গণনা হয় এবং কোনগুলো হয় না?

৪,০০০ ঘণ্টার যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রকাশ্য হিসেবে রাখা দীর্ঘ ভিডিও থেকে অর্জিত যোগ্য দেখার সময় গণনা করা হয়। ব্যক্তিগত, তালিকাবহির্ভূত বা মুছে ফেলা ভিডিও থেকে অর্জিত দেখার সময় গণনা হয় না। বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে পাওয়া দেখার সময় এবং শর্টস ফিড থেকে অর্জিত দেখার সময়ও ৪,০০০ ঘণ্টার হিসাবে যোগ হয় না। কোনো সরাসরি সম্প্রচার তালিকাবহির্ভূত বা মুছে ফেলা হলে, অথবা পরে সাধারণ ভিডিও হিসেবে সংরক্ষিত না হলে, সেই সম্প্রচার থেকে পাওয়া দেখার সময়ও এই যোগ্যতার হিসাবে গণনা হয় না।

শর্টস দিয়ে মনিটাইজেশন পেতে কী লাগবে?

শর্টস-কেন্দ্রিক চ্যানেলের জন্য ৯০ দিনে ১ কোটি যোগ্য পাবলিক শর্টস ভিউ এবং ১,০০০ সাবস্ক্রাইবারের পথ রয়েছে। শুধু পাবলিক শর্টস ফিডের যোগ্য ভিউ ধরা হয়; প্রাইভেট, আনলিস্টেড, ডিলিট করা শর্টস, বিজ্ঞাপন প্রচারের ভিউ ও ইমেজ পোস্ট ধরা হয় না। তাই ইউটিউব স্টুডিওর “আর্ন” অংশের অগ্রগতি অনুসরণ করুন।

সাবস্ক্রাইবার ও ওয়াচ টাইম ছাড়াও যে শর্তগুলো জরুরি

আবেদন করার সময় চ্যানেলকে ইউটিউবের মনিটাইজেশন নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো সক্রিয় কমিউনিটি গাইডলাইনস স্ট্রাইক থাকা যাবে না। গুগল অ্যাকাউন্টে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখতে হবে, ইউটিউবের অ্যাডভান্সড ফিচারস ব্যবহারের অনুমতি থাকতে হবে এবং একটি সক্রিয় অ্যাডসেন্স ফর ইউটিউব অ্যাকাউন্ট চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। নতুন অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হলে ইউটিউব স্টুডিও থেকেই সেটি তৈরি করা নিরাপদ ও অফিসিয়াল পদ্ধতি।

৫০০ সাবস্ক্রাইবারের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি কেন হয়?

৫০০ গ্রাহকের মানদণ্ডটি সম্প্রসারিত ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের জন্য। যোগ্য দেশের নির্মাতাদের ক্ষেত্রে এর জন্য ৫০০ গ্রাহকের পাশাপাশি গত ৯০ দিনে অন্তত ৩টি বৈধ প্রকাশ্য আপলোড এবং গত ১২ মাসে ৩,০০০ যোগ্য প্রকাশ্য দেখার ঘণ্টা, অথবা গত ৯০ দিনে ৩০ লাখ যোগ্য প্রকাশ্য শর্টস ভিউ প্রয়োজন। এই স্তর থেকে কিছু দর্শক-সহায়তাভিত্তিক ও কেনাকাটাসংক্রান্ত সুবিধায় আগাম প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে ১৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এই কর্মসূচির দেশতালিকায় বাংলাদেশ নেই। বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম আয়ের অংশ পাওয়ার জন্য ১,০০০ গ্রাহকের উচ্চতর মানদণ্ড প্রযোজ্য।

পুনরায় ব্যবহৃত ও ব্যাপকভাবে তৈরি কনটেন্ট কেন মনিটাইজেশনে সমস্যা করে?

ইউটিউব মনিটাইজেশনের জন্য কনটেন্ট মৌলিক ও স্বতন্ত্র হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের ভিডিও বা অনলাইন কনটেন্ট সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করা, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের ক্লিপ শুধু একত্র করা, একই ছাঁচে খুব সামান্য পরিবর্তনসহ অনেক ভিডিও তৈরি করা, অথবা পর্যাপ্ত বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা শিক্ষামূলক মূল্য ছাড়া ছবির ধারাবাহিক উপস্থাপনা তৈরি করা মনিটাইজেশনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ব্যাপকভাবে তৈরি এবং একই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্টেও নির্মাতার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বা উল্লেখযোগ্য মূল্য না থাকলে সমস্যা হতে পারে। কপিরাইট দাবি না থাকলেও পুনরায় ব্যবহৃত কনটেন্টের নীতি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের বক্তব্য, বিশ্লেষণ, গবেষণা, উপস্থিতি, গল্প বলার ধরন বা উল্লেখযোগ্য সম্পাদনার মাধ্যমে স্পষ্ট মৌলিক মূল্য যোগ করা উচিত।

কৃত্রিম ভিউ বা গ্রাহক বাড়ানো কেন এড়ানো উচিত?

ভিউ, গ্রাহক, পছন্দ, দেখার সময় বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর চেষ্টা ইউটিউবের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কৃত্রিম অংশগ্রহণ সংগ্রহ করা বা নীতিবহির্ভূত উপায়ে পরিসংখ্যান বাড়ানোর চেষ্টা করলে মনিটাইজেশন হারানোসহ চ্যানেলের ওপর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই দর্শক বৃদ্ধি ও দেখার সময় অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক এবং নীতিসঙ্গত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

রিভিউয়ের আগে পুরো চ্যানেল কীভাবে প্রস্তুত করবেন?

শুধু সর্বশেষ ভিডিও ঠিক করলেই যথেষ্ট নয়। রিভিউয়াররা চ্যানেলের মূল বিষয়, বেশি দেখা ও নতুন ভিডিও, বেশি ওয়াচ টাইম আনা ভিডিও, শিরোনাম, থাম্বনেইল, বর্ণনা ও “অ্যাবাউট” অংশ দেখতে পারেন। আবেদনের আগে পুরোনো ভিডিওও অডিট করা উচিত। সন্দেহজনকভাবে পুনরায় ব্যবহৃত, খুব কম মূল্যসম্পন্ন বা নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভিডিও থাকলে সেগুলো পর্যালোচনা করুন এবং ভবিষ্যৎ কনটেন্টে একটি স্পষ্ট বিষয়ভিত্তিক পরিচয় গড়ে তুলুন।

বিজ্ঞাপনদাতাবান্ধব কনটেন্টের গুরুত্ব

পার্টনার প্রোগ্রামে প্রবেশ করা এবং প্রতিটি ভিডিওতে পূর্ণ বিজ্ঞাপন পাওয়া একই বিষয় নয়। ভিডিওর পাশাপাশি শিরোনাম, থাম্বনেইল, বর্ণনা ও ট্যাগও বিজ্ঞাপনদাতাবান্ধব নীতির আওতায় পড়ে। শিক্ষামূলক, তথ্যভিত্তিক বা ডকুমেন্টারি কনটেন্টে প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট যোগ করলে সিস্টেম ও মানব রিভিউয়ার বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাই অতিরঞ্জিত থাম্বনেইল, বিভ্রান্তিকর শিরোনাম বা প্রসঙ্গহীন সংবেদনশীল উপাদান এড়িয়ে পরিষ্কার ও সঠিক উপস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ও বয়সসংক্রান্ত নিয়ম

অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টের আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী নির্মাতা থাকলে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক নিজের গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং অনুমোদিত হলে অর্থপ্রদান সেই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নামে পরিচালিত হয়। নাম, পরিচয় এবং অর্থপ্রদানের তথ্য সঠিক রাখা জরুরি; ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পরবর্তী যাচাই ও পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

মনিটাইজেশনের জন্য একটি কার্যকর ৫ ধাপের প্রস্তুতি

প্রথমে চ্যানেলের জন্য একটি পরিষ্কার বিষয় নির্ধারণ করুন। দ্বিতীয়ত, নিজের বক্তব্য, অভিজ্ঞতা বা গবেষণাসমৃদ্ধ মৌলিক ভিডিও প্রকাশ করুন। তৃতীয়ত, ইউটিউব স্টুডিওতে যোগ্য দেখার সময় ও শর্টস ভিউয়ের অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। চতুর্থত, আবেদন করার আগে বেশি দেখা ও পুরোনো ভিডিওসহ শিরোনাম, থাম্বনেইল এবং বিবরণ পর্যালোচনা করুন। পঞ্চমত, দুই ধাপের যাচাইকরণ, উন্নত সুবিধার অনুমতি এবং ইউটিউব অ্যাডসেন্স হিসাবের সংযোগ প্রস্তুত রাখুন।

মনিটাইজেশনের আবেদন কীভাবে করবেন?

যোগ্যতা পূরণ হলে ইউটিউব স্টুডিও খুলে “আর্ন” অংশে যান এবং “অ্যাপ্লাই নাউ” অপশন অনুসরণ করুন। প্রথমে পার্টনার প্রোগ্রামের বেস শর্ত গ্রহণ করতে হবে, তারপর সক্রিয় অ্যাডসেন্স ফর ইউটিউব অ্যাকাউন্ট যুক্ত বা প্রয়োজন অনুযায়ী সেটআপ করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে চ্যানেল রিভিউ কিউতে যায়। ইউটিউবের মতে সাধারণত প্রায় এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যদিও আবেদনসংখ্যা, সিস্টেম সমস্যা বা অতিরিক্ত পর্যালোচনার কারণে সময় বাড়তে পারে।

আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?

আবেদন অনুমোদিত না হলে কারণ বুঝে চ্যানেল সংশোধন করুন। বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকতে পারে, অথবা প্রথম প্রত্যাখ্যানের ৩০ দিন পরে পুনরায় আবেদন করা যায়। আগে পুনরায় আবেদন করা হয়ে থাকলে পরবর্তী সুযোগ সাধারণত ৯০ দিন পরে আসে। অপেক্ষা করার চেয়ে নীতিগতভাবে দুর্বল কনটেন্ট ঠিক করা বেশি জরুরি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

১. ইউটিউব মনিটাইজেশনের জন্য কত সাবস্ক্রাইবার দরকার?

বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন আয়ের জন্য সাধারণভাবে কমপক্ষে ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার দরকার। এর সঙ্গে গত ১২ মাসে ৪,০০০ যোগ্য পাবলিক ওয়াচ আওয়ার অথবা গত ৯০ দিনে ১ কোটি যোগ্য পাবলিক শর্টস ভিউয়ের যেকোনো একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু সাবস্ক্রাইবার পূরণ করলেই আবেদনযোগ্যতা সম্পূর্ণ হয় না।

২. ৫০০ সাবস্ক্রাইবার হলেই কি বাংলাদেশে মনিটাইজেশন চালু হবে?

বর্তমান সরকারি দেশতালিকা অনুযায়ী না। ৫০০ গ্রাহকের স্তরটি সম্প্রসারিত ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের যোগ্য দেশের জন্য এবং এর সঙ্গে গত ৯০ দিনে অন্তত ৩টি বৈধ প্রকাশ্য আপলোডসহ নির্ধারিত দেখার সময় বা শর্টস ভিউয়ের শর্তও রয়েছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সেই দেশতালিকায় বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম আয়ের অংশ পাওয়ার জন্য ১,০০০ গ্রাহকের উচ্চতর মানদণ্ড প্রযোজ্য।

৩. শর্টসের ওয়াচ টাইম কি ৪,০০০ ঘণ্টায় যোগ হয়?

শর্টস ফিড থেকে আসা ওয়াচ আওয়ার ৪,০০০ যোগ্য পাবলিক ওয়াচ আওয়ারের শর্তে যোগ হয় না। শর্টসের জন্য আলাদা ভিউভিত্তিক পথ রয়েছে। তাই লং-ফর্ম ও শর্টস দুই ধরনের কনটেন্ট করলে তাদের মনিটাইজেশন অগ্রগতি আলাদাভাবে দেখা উচিত।

৪. প্রাইভেট বা আনলিস্টেড ভিডিওর ওয়াচ টাইম কি গণনা হয়?

না, প্রাইভেট ও আনলিস্টেড ভিডিও থেকে আসা ওয়াচ আওয়ার পার্টনার প্রোগ্রামের ৪,০০০ ঘণ্টার যোগ্যতার হিসাবের অংশ নয়। ডিলিট করা ভিডিও বা বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে অর্জিত ওয়াচ টাইমও এই সীমায় ধরা হয় না।

৫. কপিরাইট ক্লেইম না থাকলে কি রিইউজড কনটেন্ট সমস্যা হবে না?

এটি ভুল ধারণা। রিইউজড কনটেন্ট নীতি কপিরাইট প্রয়োগ থেকে আলাদা। অন্যের কনটেন্ট ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও যদি আপনার ভিডিওতে উল্লেখযোগ্য মৌলিক ব্যাখ্যা, সম্পাদনা বা নতুন মূল্য স্পষ্ট না হয়, তাহলে মনিটাইজেশন রিভিউয়ে সমস্যা হতে পারে।

৬. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলে কি মনিটাইজেশন পাওয়া যায়?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলেই কোনো চ্যানেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনিটাইজেশনের অযোগ্য হয়ে যায় না। তবে কনটেন্টকে মৌলিক, স্বতন্ত্র এবং দর্শকের জন্য উপকারী হতে হবে। একই ছাঁচ ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে অনেক ভিডিও তৈরি করা, খুব সামান্য পরিবর্তন করা বা নির্মাতার নিজস্ব বক্তব্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তব মূল্য না থাকা কনটেন্ট মনিটাইজেশনের জন্য অযোগ্য হতে পারে।

৭. মনিটাইজেশনের আবেদন করলেই কি সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদন হয়?

না। যোগ্যতা পূরণের পর ইউটিউব স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও মানব রিভিউয়ার ব্যবহার করে পুরো চ্যানেল পরীক্ষা করতে পারে। ইউটিউব সাধারণত প্রায় এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা বলে, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

৮. সক্রিয় কমিউনিটি গাইডলাইনস স্ট্রাইক থাকলে কি আবেদন করা যাবে?

সক্রিয় কমিউনিটি গাইডলাইনস স্ট্রাইক থাকলে নতুন করে পার্টনার প্রোগ্রামে আবেদন করা যায় না। স্ট্রাইক মেয়াদ শেষ হওয়া বা সফল আপিলের মাধ্যমে সরানো হলে পরে আবেদন করা সম্ভব হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে চ্যানেলের নীতিগত অবস্থা যাচাই করা উচিত।

৯. ১৮ বছরের কম বয়সে কি ইউটিউব থেকে আয় করা সম্ভব?

কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হলেও অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টের আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক নির্মাতার ক্ষেত্রে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক নিজের নামে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট খুলে অনুমোদিত পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।

১০. মনিটাইজেশন পাওয়ার পর কি এটি স্থায়ী থাকে?

না, অনুমোদনের পরও চ্যানেলকে নিয়মিত ইউটিউবের নীতি মেনে চলতে হয়। ইউটিউব মনিটাইজড চ্যানেল পুনরায় পরীক্ষা করতে পারে এবং নীতিভঙ্গ হলে মনিটাইজেশন বন্ধ হতে পারে। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেও ঝুঁকি আছে; ইউটিউব ছয় মাস বা তার বেশি সময় ভিডিও বা পোস্ট না করা চ্যানেলের মনিটাইজেশন বন্ধ করার অধিকার রাখে।

উপসংহার

ইউটিউব মনিটাইজেশন শুধু ১,০০০ গ্রাহক বা নির্দিষ্ট দেখার সময় পূরণের বিষয় নয়। সংখ্যাগত যোগ্যতা পূরণ করার পরও পুরো চ্যানেল ইউটিউবের মনিটাইজেশন নীতি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়। তাই বাংলাদেশভিত্তিক নির্মাতাদের জন্য ১,০০০ গ্রাহকভিত্তিক বিজ্ঞাপন আয়ের যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি মৌলিক ও দর্শকের জন্য উপকারী কনটেন্ট তৈরি করা এবং আবেদন করার আগে পুরো চ্যানেলের নীতিগত অবস্থা পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top