পেপাল না থাকলে বিকল্প কোন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করবেন

বিদেশি ক্লায়েন্ট, অনলাইন মার্কেটপ্লেস কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি ব্যবহারকারীর প্রথম পছন্দ হিসেবে পেপালের নাম আসে। কিন্তু বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় পেপাল অ্যাকাউন্ট সুবিধা এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য চালু না হওয়ায় বাস্তবে অন্য পেমেন্ট মাধ্যম বেছে নিতে হয়। সুখবর হলো, পেপাল না থাকলেও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের জন্য এখন বেশ কয়েকটি কার্যকর ও বৈধ পথ রয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু কোন সেবার নাম জনপ্রিয়, সেটি দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। বরং টাকা কোথা থেকে আসবে, কে পাঠাবে, কোন মুদ্রায় পাঠাবে, কত ঘন ঘন পেমেন্ট আসবে এবং শেষ পর্যন্ত আপনি ব্যাংক নাকি বিকাশে টাকা নিতে চান এসব বিষয় মিলিয়ে পেমেন্ট মাধ্যম নির্বাচন করা উচিত। ব্যবহারিক দৃষ্টিতে এটিই সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি।

২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সীমান্তপারের ডিজিটাল পেমেন্টের জন্য ব্যাংকনির্ভর নতুন কাঠামো চালু করেছে। এর ফলে অনুমোদিত ব্যাংক ভবিষ্যতে বিদেশি পেমেন্ট সেবাদাতার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করার আরও পরিষ্কার সুযোগ পাচ্ছে। তবে নতুন কাঠামো তৈরি হওয়া আর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ পেপাল সেবা চালু হয়ে যাওয়া একই বিষয় নয়। তাই বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য বিকল্পগুলো জানা এখনও জরুরি।

প্রথমে বুঝুন আপনার কোন ধরনের পেমেন্ট দরকার

সব আন্তর্জাতিক পেমেন্টের জন্য একই মাধ্যম সেরা নয়। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করেন এবং নিয়মিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নেন, তাহলে পেওনিয়ারের মতো ব্যবসাভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সুবিধাজনক হতে পারে। বিদেশে থাকা কোনো ব্যক্তি সরাসরি আপনার বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে চাইলে ওয়াইজ বা সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার ভালো হতে পারে। আবার কোনো নির্দিষ্ট ক্লায়েন্ট স্ক্রিল ব্যবহার করলে সেটিও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যায়। অর্থাৎ মাধ্যম নির্বাচনের আগে টাকা পাঠানোর উৎসটি জানা সবচেয়ে জরুরি।

২০২৬ সালে বাংলাদেশে পেপালের বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশে পেপাল চালুর বিষয়ে ২০২৬ সালে সরকারি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে বিদেশি পেমেন্ট সেবাদাতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ করার জন্য ব্যাংকনির্ভর সীমান্তপারের ডিজিটাল পেমেন্ট কাঠামো দিয়েছে। নির্দিষ্ট অনুমোদিত উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত কিছু অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের ঠিকানা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে সবাই এখন পূর্ণাঙ্গ পেপাল অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। পেপাল চালুর জন্য সরকারি উদ্যোগ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো এগোলেও পরিষেবা বাস্তবে চালু হওয়ার বিষয়টি আলাদা। তাই কোনো অনানুষ্ঠানিক উপায়ে অন্য দেশের ঠিকানা ব্যবহার করে পেপাল অ্যাকাউন্ট তৈরির চেষ্টা না করে অনুমোদিত বিকল্প ব্যবহার করাই নিরাপদ।

পেওনিয়ার: বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে ব্যবহারিক বিকল্প

নিয়মিত আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে পেওনিয়ার বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম ব্যবহারযোগ্য মাধ্যম। একজন ফ্রিল্যান্সার বা সেবা প্রদানকারী বিদেশি ক্লায়েন্টকে পেমেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারেন। যোগ্য ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট ব্যাংক ট্রান্সফার, কার্ড কিংবা পেপালসহ উপলভ্য পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন এবং টাকা পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টে আসে। এই সুবিধাটি বিশেষভাবে কাজে লাগে যখন ক্লায়েন্ট পেপালে অভ্যস্ত কিন্তু আপনি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পেপাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারছেন না।

পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও টাকা নেওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী তাদের ব্যাংক উত্তোলন সুবিধা ১৯০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে রয়েছে এবং অধিকাংশ ব্যাংক উত্তোলন সাধারণত দুই কর্মদিবসের মধ্যে পৌঁছে যায়। তবে আপনার অ্যাকাউন্ট, মুদ্রা এবং গন্তব্য ব্যাংক অনুযায়ী চার্জ ও বিনিময় হার আলাদা হতে পারে। টাকা তোলার আগে চূড়ান্ত পরিমাণ দেখে নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।

পেওনিয়ার থেকে সরাসরি বিকাশে টাকা নেওয়ার সুবিধা

বাংলাদেশে পেওনিয়ারের একটি বড় সুবিধা হলো বিকাশের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। বর্তমানে পেওনিয়ার থেকে বিকাশে একবারে সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আনা যায়। বিকাশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই পথে পেওনিয়ার মোট অর্থের ওপর ৩ শতাংশ কনভার্শন ফি এবং প্রতি লেনদেনে অতিরিক্ত ১ মার্কিন ডলার চার্জ করে। পেওনিয়ারের মাধ্যমে বিকাশে আসা এই অর্থে সাধারণ রেমিট্যান্সের ২.৫ শতাংশ সরকারি প্রণোদনা প্রযোজ্য নয়।

এই কারণে ছোট ছোট অঙ্ক বারবার তোলার পরিবর্তে যৌক্তিক পরিমাণ জমে গেলে একবারে উত্তোলন করলে স্থির চার্জের প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। আবার দ্রুত টাকা দরকার হলে সরাসরি বিকাশে নেওয়া ব্যাংক ট্রান্সফারের চেয়ে সুবিধাজনক মনে হতে পারে। তাই শুধু গতি নয়, হাতে আসা চূড়ান্ত টাকার পরিমাণও তুলনা করা উচিত।

ওয়াইজ: বিদেশি প্রেরকের জন্য সহজ কিন্তু বাংলাদেশে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে

ওয়াইজ আন্তর্জাতিক ব্যাংক ট্রান্সফারের জন্য পরিচিত একটি সেবা। বিদেশে থাকা কোনো ক্লায়েন্ট ওয়াইজ ব্যবহার করে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক বাংলাদেশি টাকায় অর্থ পেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা গ্রহণ করার জন্য প্রাপকের নিজস্ব ওয়াইজ অ্যাকাউন্টও প্রয়োজন হয় না। ফলে সরাসরি ব্যাংকে পেমেন্ট নিতে চাইলে এটি কার্যকর পথ হতে পারে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ঠিকানা ব্যবহারকারী ব্যক্তি ওয়াইজ থেকে মার্কিন ডলারের নিজস্ব গ্রহণযোগ্য ব্যাংক বিবরণ পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে বাংলাদেশ থেকে ওয়াইজকে পেওনিয়ারের মতো পূর্ণাঙ্গ বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণের অ্যাকাউন্ট ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিদেশি ক্লায়েন্ট ওয়াইজ দিয়ে আপনার বাংলাদেশি ব্যাংকে পাঠাবেন এই ব্যবহারের ক্ষেত্রটি বেশি বাস্তবসম্মত।

সরাসরি সুইফট ব্যাংক ট্রান্সফার কখন ভালো

বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক পেমেন্ট, প্রতিষ্ঠানের ইনভয়েস কিংবা নিয়মিত করপোরেট লেনদেনে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে সুইফট ট্রান্সফার এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। এতে অর্থ সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসে এবং ব্যাংকিং রেকর্ড সংরক্ষণ করা তুলনামূলক সহজ হয়। বিশেষ করে ব্যবসায়িক আয় প্রমাণ, হিসাবরক্ষণ বা ভবিষ্যতে পেমেন্টের উৎস দেখানোর প্রয়োজন হলে ব্যাংক ট্রান্সফারের পরিষ্কার নথি মূল্যবান হতে পারে।

অন্যদিকে মধ্যবর্তী ব্যাংক, প্রেরকের ব্যাংক এবং মুদ্রা রূপান্তরের কারণে মোট খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ছোট অঙ্কের পেমেন্টে এই খরচ বেশি অনুভূত হয়। তাই বড় ও কম সংখ্যক পেমেন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার বেশি যুক্তিসংগত, আর ছোট ও ঘন ঘন পেমেন্টে অন্য মাধ্যম সুবিধাজনক হতে পারে।

স্ক্রিল কি পেপালের বিকল্প হতে পারে

স্ক্রিলের আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সমর্থিত গন্তব্য হিসেবে রয়েছে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আন্তর্জাতিক অর্থ পাঠানোর সুবিধাও দেওয়া হয়। তবে কোন ব্যবহারকারীর জন্য কোন জমা বা উত্তোলন পদ্ধতি পাওয়া যাবে এবং কত চার্জ হবে, তা দেশ, অ্যাকাউন্টের অবস্থা ও লেনদেনের ধরনের ওপর নির্ভর করে। তাই স্ক্রিলকে প্রধান পেমেন্ট মাধ্যম করার আগে নিজের অ্যাকাউন্টে ব্যাংক উত্তোলন এবং চূড়ান্ত চার্জ দেখা উচিত।

ব্যবহারিকভাবে ক্লায়েন্ট আগে থেকেই স্ক্রিল ব্যবহার করলে এটি ভালো দ্বিতীয় বিকল্প হতে পারে। কিন্তু শুধু নতুন করে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্স পেমেন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা তৈরি করতে হলে পেওনিয়ার বা সরাসরি ব্যাংক পেমেন্ট অনেকের জন্য তুলনামূলক সরল সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কোন পরিস্থিতিতে কোন মাধ্যম বেছে নেবেন

নিয়মিত ফ্রিল্যান্স বা আন্তর্জাতিক সেবা আয়ের জন্য প্রথমে পেওনিয়ার বিবেচনা করা যায়। ক্লায়েন্ট যদি সরাসরি বাংলাদেশি ব্যাংকে টাকা পাঠাতে চান, তাহলে ওয়াইজ অথবা আন্তর্জাতিক ব্যাংক ট্রান্সফার সুবিধাজনক। বড় করপোরেট পেমেন্টের ক্ষেত্রে সুইফট ট্রান্সফার বেশি উপযোগী হতে পারে। আর ক্লায়েন্ট ও আপনি উভয়েই স্ক্রিল ব্যবহার করলে সেটি অতিরিক্ত একটি বিকল্প হিসেবে রাখা যায়।

সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো একটি মাধ্যমের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করা। একটি প্রধান এবং একটি বিকল্প পেমেন্ট পথ রাখুন। এতে কোনো সেবায় সাময়িক যাচাই, প্রযুক্তিগত সমস্যা বা পেমেন্ট পদ্ধতি পরিবর্তন হলেও আপনার কাজের অর্থ গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে না।

পেমেন্ট নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন

অ্যাকাউন্টের নাম অবশ্যই আপনার পরিচয়পত্র ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করুন। ক্লায়েন্টের ইনভয়েস, কাজের বিবরণ, পেমেন্ট রিকোয়েস্ট এবং লেনদেনের রসিদ সংরক্ষণ করুন। টাকা তোলার আগে শুধু প্রদর্শিত বিনিময় হার নয়, কনভার্শন চার্জ, উত্তোলন চার্জ এবং ব্যাংকের সম্ভাব্য চার্জ মিলিয়ে হাতে কত টাকা পাবেন সেটি হিসাব করুন। অন্য দেশের ভুয়া ঠিকানা, ধার করা পরিচয় বা তৃতীয় ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্ট যাচাই ও অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পেপাল না থাকলে বিকল্প পেমেন্ট মাধ্যম নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

১. বাংলাদেশে পেপালের সবচেয়ে ভালো বিকল্প কোনটি?

ফ্রিল্যান্সিং এবং বিদেশি ক্লায়েন্টের ব্যবসায়িক পেমেন্টের জন্য পেওনিয়ার বর্তমানে সবচেয়ে ব্যবহারিক বিকল্পগুলোর একটি। কারণ ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেমেন্ট রিকোয়েস্ট করা, স্থানীয় ব্যাংকে টাকা নেওয়া এবং বিকাশে অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা একই ব্যবস্থার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী অন্য মাধ্যম আরও উপযোগী হতে পারে।

২. পেপাল ব্যবহারকারী ক্লায়েন্ট কি আমাকে পেওনিয়ারে টাকা দিতে পারবেন?

যোগ্য পেমেন্ট রিকোয়েস্টের ক্ষেত্রে পেওনিয়ার বর্তমানে ক্লায়েন্টকে পেপালসহ বিভিন্ন উপলভ্য মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিতে পারে। অর্থাৎ আপনার নিজস্ব পেপাল অ্যাকাউন্ট না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট তার পছন্দের পদ্ধতি ব্যবহার করে পেওনিয়ারের মাধ্যমে আপনার বিল পরিশোধ করতে পারেন। সুবিধাটি অ্যাকাউন্ট ও অঞ্চলের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।

৩. পেওনিয়ার থেকে সরাসরি বিকাশে টাকা নেওয়া যায় কি?

হ্যাঁ। পেওনিয়ার ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের নাম একই থাকলে অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করে সরাসরি টাকা আনা যায়। বর্তমানে এক লেনদেনে সর্বনিম্ন ১,০০০ এবং সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০ টাকা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। টাকা তোলার আগে প্রদর্শিত বিনিময় হার ও প্রযোজ্য চার্জ দেখে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

৪. ওয়াইজ দিয়ে কি বাংলাদেশে টাকা গ্রহণ করা যায়?

বিদেশে থাকা প্রেরক ওয়াইজ ব্যবহার করে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারেন। প্রাপক সাধারণত বাংলাদেশি টাকায় অর্থ পান। তবে বাংলাদেশের ঠিকানা দিয়ে বর্তমানে ওয়াইজের নিজস্ব মার্কিন ডলার অ্যাকাউন্ট বিবরণ পাওয়া যায় না, তাই পেওনিয়ারের মতো একইভাবে এটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

৫. সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার কি নিরাপদ?

সঠিক ব্যাংক তথ্য এবং অনুমোদিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করলে সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার একটি প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি। বড় ব্যবসায়িক পেমেন্টের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে কার্যকর। তবে প্রেরকের ব্যাংক, মধ্যবর্তী ব্যাংক এবং মুদ্রা পরিবর্তনের চার্জ আগে জেনে নেওয়া উচিত।

৬. ছোট অঙ্কের পেমেন্টের জন্য কোনটি সুবিধাজনক?

ছোট ও নিয়মিত পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের স্থির চার্জ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। তাই পেওনিয়ার, ব্যাংক ট্রান্সফার বা অন্য মাধ্যমের চূড়ান্ত প্রাপ্ত অর্থ তুলনা করা উচিত। কয়েকটি ছোট পেমেন্ট একত্র করে পরে উত্তোলন করা কিছু পরিস্থিতিতে খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৭. স্ক্রিল কি বাংলাদেশে ব্যবহার করা যায়?

স্ক্রিল আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর সুবিধা দেখায় এবং বাংলাদেশ তাদের দেশভিত্তিক সেবা ও ফি-সংক্রান্ত তালিকায় রয়েছে। তবে আপনার অ্যাকাউন্টে কোন জমা ও উত্তোলন পদ্ধতি সক্রিয় থাকবে তা আলাদা হতে পারে। তাই নিবন্ধনের পর উপলভ্য ব্যাংক উত্তোলন ও চার্জ যাচাই করা জরুরি।

৮. অন্য দেশের ঠিকানা দিয়ে পেপাল অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত কি?

বাস্তবে আপনি যেখানে বসবাস করেন তার সঙ্গে না মেলা ঠিকানা বা অন্য ব্যক্তির তথ্য দিয়ে আর্থিক অ্যাকাউন্ট তৈরি করা উচিত নয়। পরে পরিচয়, ঠিকানা বা ব্যাংক তথ্য যাচাইয়ের সময় সমস্যা হলে অর্থ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। নিজের বৈধ তথ্য দিয়ে সমর্থিত পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করাই নিরাপদ।

৯. আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের রেকর্ড রাখা কেন জরুরি?

ইনভয়েস, পেমেন্ট রিকোয়েস্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং লেনদেনের রসিদ থাকলে অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করা সহজ হয়। ব্যবসার হিসাব রাখা, ভবিষ্যতে ব্যাংকের কোনো তথ্য চাহিদা পূরণ করা এবং ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেমেন্ট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে প্রমাণ দেখাতেও এসব নথি কাজে আসে।

১০. বাংলাদেশে পেপাল চালু হলে কি বিকল্প মাধ্যমের প্রয়োজন থাকবে?

পেপাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলেও বিকল্প পেমেন্ট মাধ্যমের প্রয়োজন শেষ হবে না। বিভিন্ন ক্লায়েন্ট ও মার্কেটপ্লেস বিভিন্ন পদ্ধতি পছন্দ করে এবং চার্জ, বিনিময় হার ও টাকা পাওয়ার সময়ও আলাদা হতে পারে। তাই ভবিষ্যতেও অন্তত দুটি বৈধ পেমেন্ট পথ প্রস্তুত রাখা ব্যবহারিকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত।

উপসংহার

পেপাল না থাকা আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করার বাধা হতে হবে না। নিয়মিত ফ্রিল্যান্স ও ব্যবসায়িক পেমেন্টের জন্য পেওনিয়ার, সরাসরি বাংলাদেশি ব্যাংকে অর্থ পাঠানোর জন্য ওয়াইজ, বড় লেনদেনে সুইফট ব্যাংক ট্রান্সফার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিল কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জনপ্রিয়তার চেয়ে আপনার ক্লায়েন্ট কীভাবে টাকা দিতে পারবেন, মোট চার্জ কত এবং শেষ পর্যন্ত হাতে কত টাকা পৌঁছাবে এই তিনটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিন। একই সঙ্গে বৈধ পরিচয়, পরিষ্কার লেনদেনের রেকর্ড এবং অন্তত একটি বিকল্প পেমেন্ট মাধ্যম প্রস্তুত রাখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top